গত জুলাইয়ে দেশটির পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯৮ কোটি ডলারে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি আমদানির বাড়তি বিল ও বিশ্বজুড়ে ফ্রেইট চার্জ বা জাহাজ ভাড়া বাড়ায় ঘাটতি এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্স।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, গত জুনে ভারতের পণ্য আমদানি ছিল ৭ হাজার ৮৪ কোটি ডলার, যা জুলাইয়ে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬২২ কোটি ডলারে। তেলের বাড়তি দাম ছাড়াও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও স্বর্ণ আমদানি বেড়ে যাওয়ায় মোট আমদানি ব্যয় বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। জুলাইয়ে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপসহ ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে স্বর্ণ আমদানি প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ডলারে।
দেশটির অর্থনেতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি খরচের এ বিশাল উল্লম্ফন দেশের সামগ্রিক বাহ্যিক আর্থিক ভারসাম্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিদেশী মূলধনপ্রবাহকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জুলাইয়ে দেশটির পণ্য রফতানি রেকর্ড ৪ হাজার ৪২৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি ডলারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রীর চালানের জোরেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।
তিনি জানান, যুদ্ধাবস্থা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের পণ্য সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।